ভালবাসা

বেশ কিছুদিন আগের কথা। তখন সবে মাত্র HSC পাশ করলাম। রেজাল্ট বেশ ভালই হল। তাই বেশ ফুর ফুরে মেজাজেই ছিলাম। বাবা মোবাইল কিনে দিলেন। সেটা নিয়ে যে কত খুশি ছিলাম বোঝাতে পারব না। প্রতিদিনই আমার বন্ধুদের ফোন করতাম। আমার বন্ধুরা ও আমাকে ফোন করত।
একদিন অজানা একটা নাম্বার থেকে আমার ফোন এ কল এল। আমি ধরলাম, বললাম, “কে বলছেন?” উত্তর, “জী, মিতা আছে?” আমি বললাম, “না, এখানে মিতা বলে কেউ নেই। আপনি কে বলছেন?” উত্তর, “সরি, রং নাম্বার।”
ফোন এ মেয়ে কণ্ঠ শুনে আমি অভ্যস্ত নই। তাই বেশ নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। ওইদিন ওইটুকুই কথা হল।
পরের দিন কেন জানি ওই নাম্বার টাতে আমি ফোন করে বসলাম। কিন্তু আমি সে রকম ছেলে নই যে ফোন করে মেয়ে দের ডিস্টার্ব করব। জানি না কেন জানি ফোন টা করেই দিলাম। তো, কল গেল। ওপর পাশ থেকে একটা মেয়ে কণ্ঠ শুনলাম। “”হেলো, কে বলছেন?”” আমি কি বলব কিছু না বুঝতে পেরে বললাম, ওই যে কাল আপনি রং নাম্বার এ কল করলেন, আমি সে। উত্তর এল, “জী বলেন।” আমি বললাম, জী থ্যাংক ইউ।
এ কথা বলেই ফোন টা রেখে দিলাম। আমার জীবনে ও এতটা নার্ভাস লাগে নি যত টা না তখন লাগছিল।

জানি না কেন আমার খুব খুশি খুশি লাগছিল। এ কথা ভেবে আমি সারা রাত ঘুমাতেই পারি নি। খুব সকালে একটু ঘুম এল। আর ঘুম ভাঙল একটা ফোন পেয়ে। সেই নাম্বার!!! তখন সকাল ৭ টা। আমি যথা সম্ভব ঘুম জড়ানো কণ্ঠ কাটিয়ে বললাম,
হ্যালো……, কে বলছেন?
জী, কাল কে আপনি যাকে ফোন করেছিলেন, আমি সে।
ওহ, জী বলুন…।
ব্যাস, ফোন টা কেটে দিল। বুঝলাম না কেন… তবে আমি যে মনে মনে খুব খুশি হয়ে আছি, সেটা খুব ভালো মতই টের পেলাম।
বেশ কয়েক ঘণ্টা এভাবেই কেটে গেল। আমি আমার ফোন দিয়ে ওই মেয়েটার নাম্বার এ sms করলাম,
Hi, I am Rizu, You?
উত্তর এল, I am Anika… Thanks…
ওই দিন এ পর্যন্তই। পরের দিন আমি ওকে ফোন করলাম, বললাম, কেমন আছেন?
উত্তর… জী ভালো, আপনি কেমন আছেন?
আমি ও বললাম ভালো।
এভাবে সৌজন্যমুলক কথা বললাম প্রায় ৫ মিনিট। মেয়ে টি কে জিজ্ঞেস করলাম ওর ঠিকানা, বাড়ি, মা বাবার কথা সবকিছু। আশ্চর্য জনক ভাবে মেয়ে টি ও আমাকে বলে দেয় সবকিছু। আমি ও বলি…
এর পরের দুই দিন কথা হয় নি। পরের দিন মেয়ে টি মানে আনিকাই আমায় ফোন করে। ভালো মন্দ কথা বলি, পড়ালেখার কথা বলি etc etc….
বলা হয় নি, ওর বাড়ি আর আমার বাড়ির দূরত্ব বেশি ছিল না, দুই তিন কিলোমিটার হবে…। তো, এভাবেই চলতে থাকে। সপ্তাহে দুই তিন বার কথা হতো। বেশ ভাল বন্ধু হয়ে যাই আমরা, আপনি থেকে তুমি হয়ে যাই আমরা।
একদিন আনিকা কে বললাম, তোমাকে তো কখনো দেখি নি, চল একবার দেখা করি..।। ও রাজি হল। আমরা দুই দিন পরই দেখা করলাম…দেখা করা মানে, ও পার্ক এ এসেছিল, আমি ও গিয়েছিলাম। ফোন এ কথা বলে বলে পার্ক এ চিনতে পারলাম ওকে, তাছাড়া ও বলেছিল লাল কিছু একটা পরে আসবে। ওকে দেখলাম, কিন্তু কথা বলি নি। ও ওর ছোট বোন কে নিয়ে এসেছিল।
ওকে দেখার পর আমার মনে হল, আমি আমার জীবনের সেরা সুন্দরী মেয়ে কে দেখছি। মনে অদ্ভুত এক ইচ্ছা পেয়ে বসল। মনে হল, ওকে ভালোবেসে ফেলেছি…। এভাবে কোন দিন কারো প্রেম এ পড়ব ভাবিনি। ওর কণ্ঠ টা ছিল খুব মিষ্টি, তাই হয় তো ওর সাথে কথা বলে ভালো লাগত। কিন্তু তখন বুঝিনি ওকে প্রথম দেখাতেই ভালবেসে ফেলব।
বাসায় আসার পর ওকে ফোন করে বললাম, আনিকা জানো, তুমি খুব সুন্দরী, আমার দেখা সেরা সুন্দরী। আনিকা বলল, আহহা রে, তার দেখা সেরা সুন্দরী… কত জন কে দেখেছ, হে??????
আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম, অনেক মেয়ে কেই দেখেছি। কোন দিন কারো সাথে কথা বলি নি, বা চোখ তুলে তাকাই নি, দেখতে হয়েছে বলেই দেখেছি!!!!

ওই পর্যন্ত ই কথা হল……।। তো , এভাবেই চলতে থাকল। আমি তখন ও বলতে পারি নি যে ওকে ভালবাসি।
কিন্তু আমার আর তর সইল না, একদিন ফোন করে বললাম, I love You…
ও হয় তো কিছুটা অবাক হয়েছিল। বলল, দাড়াও, আমায় কিছু দিন সময় দাও। আমি ভেবে দেখি…
আমার ভাগ্য টা কে ভালো ই বলতে হবে!!! পরের দিন ই ও ফোন করে বলল, Love you too!!!!!

তখন কেমন ফীলিংস হয়েছিল বোঝাতে পারব না… আপনারাই ভেবে নিন…। তবে নিজেকে আমার পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ ই মনে হচ্ছিল।

তখন থেকেই আমাদের প্রেমের শুরু। প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে যেটা হয়, ফোন এ কথা বলা…।। সেটা তখন নিয়মিতই হতো… মাঝে মাঝে দেখা করতাম, তবে কখনই ও একা আসেনি, ওর ছোটবোন কে নিয়ে আসতো। তাই সামনাসামনি কথা খুব কমই হতো… আমরা দুজন দুজন কে খুব বেশিই ভালো বেসে ফেলি…
ও একদিন আমায় ফোন করে খুশিতে ফেটে গিয়ে বলল, জানো, আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে!!!
আমি কিছু বুঝতে পারলাম না, শুধু বললাম, মানে???
ও বলল, বর টা কে জানো???
আমি বললাম, কে?
উত্তর…।। তুমি…………!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
আমি কিছু বুঝতে পারলাম না, শুধু বললাম, মানে? কিভাবে সম্ভব???
ও যা বলল, তার সারমর্ম…

ওকে ওর বাসা থেকে বিয়ের কথা বলে। ও তেমন সায় দেয় না……..কিন্তু যখন পাত্রের বিবরন শুনে তখন কেমন যেন মনে হয়… পরে ছবি দেখে!! আনিকা সাথে সাথেই বলে দেয় যে ও রাজি!! এর কিছুদিন পর আমাকেও বাসায় মা/বাবা বিয়ের পাত্রীর কথা বলে… আমি সবই জানি… কিন্তু এমন ভাব করি যেন ধোয়া তুলসি পাতা… বলি তোমাদের ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা… 😉

তার পর আর কি…। আপনারাই বুঝে নিন আমার মনের অবস্থাটা…।। ওর সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে… আমি ব্যারিস্টারি পাশ করার পরই ওর সাথে আমার বিয়ে হবে।। সেই সাথে আমাদের প্রেম ও চলছে পুরদম এ!!! কিন্তু আমাদের পরিবারের কেউ ই জানে না আমাদের প্রেমের কথা!!!!!!

সিনেমায়ও বোধয় প্রেমের এত সহজ সমীকরণ হয় না…। আল্লাহ মনে হয় আমার ওপর খুশি, তাই আমার জীবনের এত বড় ইচ্ছাটাকে তিনি এত সহজেই আমার করে দিলেন…।। আপনারা সবাই আমার আর আনিকার জন্য দুয়া করবেন প্লিজ……।।
________________________ooo______________________

Advertisements