I LOVE U too..♥ ♥:)

Bf :How are you sweetheart ?

Gf :not good

Bf : why?
what happened?

Gf :i have cold

Bf :what???how ?

Gf :i had ice cream

Bf :are you mad???
i had told you
not to eat ice cream in this rainy
season,,,are you crazy??
look into
my eyes what the hell you think
you are??
dont you have brain??

you are not a kid cant you just
take care of ur self??? stupid idiot

Girl smiled,,hugged him n
said “Love U a Lot”

Bf :watz happening here?

will u plz tell me

Gf : just luved it whenever u scold
me thts why i eat ice cream so tht
u’ll scold me

Bf :stupid idiot huh
I LOVE U
too..♥ ♥:)

গোধূলির গল্প

আমরা দুজন পাশাপাশি বসে। আমি আর আমার বন্ধু শিশির। শিশির অবশ্য ওর আসল নাম না। এটা ওর ভালোবাসার দেয়া নাম। কে জানে হয়তো রবীন্দ্রনাথের হৈমন্তী পড়ে এ নাম দিয়েছিলো। নইলে কি করে জানলো যে ভোরের শিশির সকালের আলোয় মিলিয়ে যায়?

আমরা দুজন পাশাপাশি বসে। আমি আর আমার বন্ধু শিশির। পড়ন্ত বিকেল। গোধূলির ম্রিয়মানতা ক্রমেই আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলছে। আমাদের বুকের ভেতর থেকে লাভার মতো উদ্গরিত হচ্ছে সিগারেটের ধোঁয়া। শূন্যে দৃষ্টি রেখে শিশির বলে চলছে অবিরাম। আমি শুনছি, শিশিরের মুখ থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ আমার হৃদপিণ্ডকে বিদ্ধ করছে তীরের মতো। শূন্যে দৃষ্টি রেখে শিশির বলে চলছে অবিরাম।
অবনী ওর বন্ধু ছিল, একসাথে স্কুলে পড়ত। দশ বছর আগে কোন এক মহালগ্নে শিশির অবনীকে বলেছিল ‘ভালোবাসি’। জোয়ার-ভাটার মতো দোল খেয়ে ওঠে অবনীর হৃদয়। সাড়া মেলে। তারপর পরস্পরের হাত ধরে শুরু হয় পথচলা। প্রতিদিন স্কুলে দেখা হতো, কথা হতো তবু মনের গহীনের কথাগুলো ওরা ভাগাভাগি করতো চিঠিতে। অবনীকে নিয়ে শিশির কবিতা লিখতো, ভালোবাসার কবিতা। কবিতা পড়ে অবনী শিশিরকে আরও গভীর ভাবে ভালোবাসতো। এমনি করে পেরিয়ে যেত দিন।
হঠাৎ একদিন শিশিরের লেখা একটা চিঠি গিয়ে পড়লো অবনীর মায়ের হাতে। দুই পরিবারে জানাজানি হয়ে গেলো। প্রথম বাধা আসলো। তবু এই বাধাকে অতিক্রম করে চলছিলো ওদের ভালোবাসাবাসি। এস,এস,সি পাশ করে দুজনে ভর্তি হল দুই কলেজে। দূরত্ব বেড়ে গেলো, মন তবু রইলো কাছাকাছি। হঠাৎ হঠাৎ দুজনের দেখা হতো। এরই মধ্যে কেটে গেলো দুইটি বছর।
এইচ,এস,সি পাশ করে দুজনে ভর্তি হল ঢাকায়। ওদের জীবনে এটা আরেক নতুন অধ্যায়। দুজন দুজনকে কাছাকাছি পেয়ে যেন স্বর্গ পেলো। প্রতিদিন দেখা হতো। কখনো হাজার মানুষের ভিড়ে হাত ধরে দুজনের হাঁটাহাঁটি, আবার কখনো নিভৃতচারিতা। বেশ চলছিলো ওদের জীবন। কত স্বপ্ন, কত স্বপ্ন! কিভাবে কাটবে সারাটা জীবন দুজনে পাশাপাশি বসে চলতো তারই পরিকল্পনা।
অবনীর পরিবার ওকে বিয়ে দিতে চায়। ভালই তোরজোড় শুরু হল। কিন্তু অবনীর জোরে সব ভেস্তে যেত। ওরা ভাবে বিয়ে করে ফেলবে। কিন্তু শুধু ভালোবাসা দিয়ে তো আর জীবন চলে না। দুজনই বেকার। চেষ্টা চলে সময় পার করার। আর তো একটা বছর, অনার্স শেষ হলেই একটা কিছু হয়ে যাবে। তারপরে একসাথে থাকা। কত স্বপ্ন, কত স্বপ্ন বাসা বাঁধে দুজনের চোখে!
এরই মাঝে একটা শুভ লক্ষণ। অবনীর সরকারি চাকরি হল। এখন আর বিয়ে করতে সমস্যা নেই। কিন্তু পরিবারের অমতে ওরা বিয়ে করতে চাইলো না। আবার অপেক্ষা। অবনী চাকরির প্রয়োজনে ঢাকা থেকে চলে গেলো। আবার দূরত্ব। কিন্তু সম্পর্ক থেমে থাকলো না। নিয়মিত কথা হতো মুঠোফোনে। এমনি করে পেরিয়ে যেত দিন।
দুজন দুজনকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। মাঝে মাঝে শত মাইল পাড়ি দিয়ে কেউ একজন ছুটে আসতো, দেখা হতো, ভালোবাসাবাসি হতো, চলতো হাজার স্বপ্নের বুনন।
পৃথিবীতে কোনোকিছুই অবিনশ্বর নয়। মানুষের মন তো নয়ই। অবনীর হঠাৎ পরিবর্তন হতে লাগলো। শিশিরের সাথে ঠিক মতো কথা বলতো না, খোঁজ নিতো না। অবনীর কি হল? না, শিশির অনেক বিশ্বাস করতো অবনীকে তাই কোন সন্দেহ করতে পারলো না। শিশির জানে, অবনী বলেছিল, যা-ই করি না কেন আমি তোমার, তোমারই থাকবো’। শিশির নিশ্চিন্ত ছিলো, অবনী ওকে কখনো ছেড়ে যাবে না।
কয়েক দিন ধরে অবনীর সাথে যোগাযোগ হয় না। শিশির ভাবে কি হলো, অবনী কোনো বিপদে পড়লো না তো? চেষ্টা করেও কোনো যোগাযোগ করা গেলো না। শিশির অপেক্ষায় থাকলো।
কয়েক দিন পর, শিশির খবর পেলো যে একজন ওকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। কেন? শিশিরের জন্য অপেক্ষায় ছিল বলেই অবনীকে সে পেয়েছে!
শূন্যে দৃষ্টি রেখে শিশির বলে চলছে অবিরাম। কখন যে অন্ধকার আমাদের গ্রাস করেছে বুঝতেই পারিনি। দূরে জ্বলে ওঠা আলোগুলি আমার চোখে ঝাপসা হয়ে আসছে।

___The End___

অসমাপ্ত সমাপ্তি

কাল থেকে আবার ব্যস্ততা বেড়ে যাচ্ছে। নতুন ছাত্র ছাত্রী ভর্তি হবে। আমি আবার ওদের ক্লাস টীচার। সকাল সাতটায় প্রধান শিক্ষক স্কুলে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। বুঝতে পারছিনা কী হবে। আমি মানুষ হিসেবে বেশ এলোমেলো স্বভাবের। এতগুলো বাচ্চাকে একসাথে কন্ট্রোল করতে পারবো কিনা জানিনা। কিন্তু চাকুরীর প্রয়োজনে করতেই হবে। ঢাকা শহরে বর্তমানে চাকরীর খুব আকাল। এছাড়া ব্যাচেলরদের কেউ বাড়ি ভাড়াও দিতে চায়না। সেক্ষেত্রে এই চাকুরীটার একটা সুবিধা আছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ দুই রুমের একটা বাসাও ঠিক করে দিয়েছে। মোটামুটি আরামের চাকরী। প্রতি মাসে বেতনের এক অংশ চলে যায় মৌরীর শখ পুরন করতে। যদিও মৌরী আমার কাছে নেই আজ দশ বছর। তারপরেও ওর শখটা যত্ন করে আমি টিকিয়ে রেখেছি। খুব অদ্ভুত স্বভাবের ছিল মেয়েটা।

আমার সাথে মৌরীর প্রথম পরিচয় ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে। বেচারা ধানমন্ডি থেকে রিকশায় এসেছে। সম্ভবত বিশ টাকার একটাই নোট ছিল ওর কাছে। কিন্তু ঢাকা শহরের রিকশা ওয়ালা বলে কথা। একটু ছেঁড়া নোট হওয়াতে নোট পাল্টিয়ে দিতে বলা হল। আমি অনেক্ষন ধরেই ব্যপারটা লক্ষ করছিলাম। দেখলাম বেচারার মায়াবী মুখখানা শুকিয়ে গেছে। শরীর থেকে দরদর করে ঘাম ঝড়ছে। রিকশাওয়ালা ক্রুর হাসি দিল। স্টিভ জবস আইপড আবিস্কার করে যেমন হাসি দিয়েছিলেন অনেকটা তেমন। আমি কাছে গিয়ে বললাম দেখ যদি কিছু মনে কর তবে আমি ভাড়াটা দিয়ে দিচ্ছে। নিজেকে কয়েক মিনিটের জন্য হাতেম তাই মনে হল।মৌরী বিব্রত বোধ করলেও কিছু করার ছিলনা।

সুন্দর মেয়েদের প্রতি আমার আকর্ষন ছোটবেলা থেকেই। তবে অদ্ভুত সুন্দর বলে সাহিত্যে একটা কথা আছে। এই প্রথম কোন মেয়ের মাঝে আমি এই ব্যাপারটা লক্ষ করলাম। স্তম্ভিত হয়ে যাওয়া একখানি করুন চোখের বিমর্ষ চাহূনী এক নিমিষে আমাকে আরো এলোমেলো করে তুলল। মৌরী আমাকে ধন্যবাদ না দিয়ে বলল অনেক করেছেন। কষ্ট করে বারোটার দিকে এখানে একটু আসবেন। আমাকে নিতে মামা আসবে। আপনার টাকাটা ফেরত নিয়ে যাবেন। মুখ থেকে ফস করে একটা কথা বের হয়ে গেল। বললাম তুমি এত সুন্দর ক্যানো?

উত্তর এল অপদার্থ কোথাকার। মনে ভাবলাম সত্যিই এই পৃথীবিতে উপকারীর কোন দাম নেই। এক মুহুর্তে নিজেকে বাই প্রোডাক্ট মনে হল। আমার চেহারা মোটামুটি খারাপ না। রাস্তার পাশে রাখা একটা গাড়ীর কাঁচে নিজেকে দেখে নিলাম। না কোথাও অপদার্থের ছায়া নেই। মৌরি চলে গেলে আমি ওর যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইলাম। সেদিন আর ক্লাসে গেলাম না। আনন্দ সিনেমা হলের সামনে পরম আনন্দে বাদাম চিবুতে লাগলাম। প্রায় সাড়ে বারোটার দিকে মৌরী এল। আমাকে দেখে একটু হাসল। বলল এই নিন আপনার টাকা। দেখলাম ভাঁজ করা একটা পঞ্চাশ টাকার নোট। শুনুন বাসায় গিয়ে টাকাটা খুলবেন। আজ আসি।

আমি তখন তেজতুরী বাজারের একটা হোস্টেল থাকি। খুব দ্রুত হোস্টেলে ফিরে এলাম। টাকাটা খুলে একটু অবাক হলাম। সাথে একটা চিরকুট। যেখানে লেখা আমি মৌরী। UCC তে পড়ি। আজ অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচালেন। কাল ঠিক দশটায় পূর্বের জায়গায় উপস্থিত থাকবেন। চিরকুটটি পড়ে আনন্দে আত্নহারা হয়ে গেলাম।

এরপরের দিনগুলি ছিল খুবই মজার। প্রতিদিন আমাদের দেখা করা। ধানমন্ডী লেকে হাঁটা। ফুচকা খাওয়া। মাঝে মাঝে চন্দ্রিমায় গিয়ে জীবনের গল্প শোনা। ভার্সিটি লাইফেও আমরা একসাথে ছিলাম। মৌরী ভর্তি হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। আমি বাংলায়। ভার্সিটির তৃতীয় বর্ষে থাকা কালীন সময়ে আমি মৌরীকে প্রথম ভালোবাসার কথা জানাই। প্রথমে সম্মতি না দিলেও একটা পর্যায়ে ও রাজী হয়ে যায়। এরপরের সময় গুলো শুধুই দু জনার। আনন্দ বেদনা হাসি কান্না এক হয়ে মিশে গিয়েছিল আমাদের সম্পর্কে। মৌরীকে আমি অনেক ভালোবাসতাম। অনেক। যতটা ভালো একটা মানুষকে বাসা যায় তার চেয়েও বেশি।

ভার্সিটির শেষ বর্ষে এসে মৌরীর বিয়ে হয়ে যায়। আমি তখন বেকার। যদিও মৌরী ওর বাবা মাকে আমাদের সম্পর্কের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বেকার ছেলের হাতে কেউই তার মেয়েকে তুলে দেবেনা। সবাই জানতো। আমিও জানতাম। আর তাই শেষ বার যখন মৌরীর সাথে আমার দেখা হয় তখন আমার উদাসীনতা ওকে বিচলিত করে তুলেছিল। ও অনেক বার বলেছিল পালিয়ে বিয়ে করতে। কিন্তু আমি ভালোবাসার পবিত্রতাকে নষ্ট করতে দেয়নি। তাই ওকে বলেছিলাম সম্ভব নয়। সেই নীল দু’টি চোখে টলমল জল কতটা আবেগ বহন করেছিল আমি জানিনা তবে মৌ চলে যাবার পর ঝুম বৃষ্টি নেমেছিল। ঢাকা শহরের সব মানুষ সেদিন তাকিয়ে দেখেছিল মুষল ধারে বৃষ্টিতে একটি ছেলে উদভ্রান্তের মত হাঁটছে। নিজের জীবনকে তখন থেকেই অর্থহীন লাগা শুরু করল। মৌরীর শখ ছিল ফটোগ্রাফি করা। আর তাই শত কষ্টের মাঝেও মৌরীর এই শখটা আমি টিকিয়ে রেখেছি।

মৌরীর সাথে এটাই আমার শেষ দেখা। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হত ওর কাছে। ও বলতো দেখ শ্রাবন তোমাকে এক উদাসীন থাকলে চলবেনা। প্লিজ কিছু একটা করো। তোমাকে ছাড়া বাঁচতে আমার কষ্ট হবে। তুমি কয়েকটা টিউশনি করাও। তুমিতো ভালো লেখালেখি কর। পত্রিকায় জমা দাও। আমাদের বিয়ের পর আমরা একটা বাসা ভাড়া করবো। প্রয়োজনে আমিও দু একটা টিউশনি করাবো। আমাদের বেশ চলে যাবে। মৌরীর কথা শুনে হাসতাম। প্রবল জোড়ে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হাসতাম। বলতাম দেখ মৌ,জীবনটা বাংলা সিনেমা না। বাস্তবতা আমাদের মেনে নিতেই হবে। সত্যিই আজ বাস্তবতার শীকার আমি। খুবই সুন্দর ভাবে নিজেকে মানিয়েও নিয়েছি। কি অদ্ভুত সুন্দর আমাদের চারপাশ। কৌতুহল ভরে ঢাকার রাস্তায় হাঁটি আর ভাবি হয়তো তুমি এই শহরেরই কোন এক অট্টালিকায়। জীবনের বাস্তবতায় কথনো কি দেখা হবে আমাদের? মৌরী চলে যাবার পর মাঝরাতে প্রায়ই ঘুম ভেঙে যেত। প্রবল বৃষ্টিকে মৌরীর কান্নার শব্দ মনে হত। ভাবতাম আকাশের ও কি মৌরী নামে কেউ ছিল। যার জন্যে এত কান্না। এত মেঘ। এত বর্ষন। প্রতিদিনের মত আজকেও ঘুমিয়ে পরলাম সীমাহীন বেদনা নিয়ে।

সকালে ঘুম থেকে উঠলাম একটু দেরী করে। আজ দশ বছর ধরে এই বাজে অভ্যাসটা আমার পিছু নিয়েছে। আমার জীবনের গভীর পূর্নতা নিয়ে মৌরী যখন এসেছিল তখন সাথে করে ভালো কিছু নিয়ম ও এনেছিল।যেমন ফজরের নামাজ পড়া। ঠিক সময়ে ঘুমানো। ঠিক ভাবে খাওয়া। আজ অনেকদিন হল কেউ শাসন করেনা। জীবনের গভীর থেকে গভীরতম শুন্যতার কষ্ট যে কতটা নির্মম তা আজ দশবছর ধরে অনুভব করছি। বরাবরের মতই একটু লেট করে ক্লাসে গেলাম। প্রধান শিক্ষক বললেন ‘আজ আপনাকে একটু আগে আসতে বললাম তাও লেট করলেন। ঘড়ির দিকে তাকালাম।

আসলেই দেরী হয়ে গেছে। তড়িঘড়ি করে ক্লাসে ঢুকলাম। বাইরে দেখি একদল ছেলমেয়ে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। একেক জন আসছে। আর আমি ভর্তির কাগজপত্র ঠিক করছি। এই সব বাচ্চাদের সাথে আগামি চার পাঁচ বছর থাকতে হবে ভাবতেই কেমন যেন লাগলো। বাসায় ফিরতে দুপুর হল। অনেক ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। সিদ্ধান্ত নিলাম আজ আর ছবি তুলতে যাবোনা। এছাড়া বেশ কয়েকটি রিল জমা পরে আছে। ছবিও ধোয়ানো হয়নি। গত মাসে বাসায় টাকাও পাঠানো হয়নি। ছোট বোনটার ফর্ম ফিলাপ নিশ্চই কর হয়নি। অনেক চাপ মাথার ওপর। হঠাত্‍ করে অনুধাবন করলাম বেশ অলস হয়ে যাচ্ছি। আগের মত চঞ্চলতা আর আমার মাঝে নেই।

নতুন ছাত্র ছাত্রীদের সাথে সময় বেশ ভালোই কেটে যায়। দু একজনের সাথে সখ্যতাও বেশ ভালোভাবে জমে উঠেছে। আজকাল ওদেরকেই নিজের বাচ্চার মত মনে হয়। দু একটা বাচ্চাকে বেশ ভালোও লাগে। মাঝেমাঝে ক্যান্টিন থেকে চকোলেট কিনে দেই। এর মাঝে নিনাদ নামের একটা মেয়েকে বেশ ভালো লাগে। ঠিক মৌরীর মত দেখতে। শান্ত চোখ। নিবিড় চাহুনী। অজস্র মায়া দিয়ে তৈরি সুন্দর একটি মেয়ে। মাঝেমাঝে ডেকে কথা বলি। সময় বেশ ভালোই কেটে যায়।

একদিন স্কুলে যাবার পথে দেখি গেটের সামনে ছোট খাট একটা জটলা। ভীড় ঠেলে সামনে এগিয়ে দেখি নিনাদ কাঁদছে। তার পাশে কেউ একজন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। খুব সম্ভব Accident.

মৌরীকে চিনতে আমার কষ্ট হলোনা। সেই নীল চোখ। সেই কাজল কালো চোখের স্নিগ্ধতা। সেই পাতলা ঠোঁট। দশবছর আগে যেমন ছিল ঠিক তেমনই। একটুও বদলায়নি। শুধু একটু বার্ধক্যের ছাপ পরেছে। তার পরেও সেই টানটান চামড়ার উজ্বলতা। সবকিছু আগের মত। একটা ধাক্কার মত খেলাম। নিনাদ আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। বলল ‘স্যার আম্মু হঠাত্‍ করে রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। আপনি প্লিজ হাসপাতালে নিয়ে চলুন।

জীবনের এমন একটা অবস্থায় মৌরীকে দেখবো কখনো কল্পনাও করিনি। যে অধিকার একবার ছেড়ে দিয়েছি আজ তাকে স্বাধীকারের কর্তব্যে জড়াবো তা ভাবতে ও পারিনি। সংশয় আর দ্বিধাকে কাটিয়ে মৌরীকে গাড়ীতে তুললাম। সেই হাত।দশ বছর আগে যাকে শেষ বারের মত ধরেছি আজ সেই হাত ধরতে এত সংকোচ ক্যানো? কোথায় এত বাঁধা? এত সংকীর্নতা? খুঁজে পেলাম না। গাড়ীতে বসে নিনাদকে প্রশ্ন করলাম ’তোমার বাবা কোথায়?

ছোট্ট মেয়েটার শুকিয়ে যাওয়া মুখটি আরো ছোট হয়ে গেল। যা শুনলাম তার অর্থ মোটামুটি এরকম। ওর বাবা নেশা গ্রস্ত। প্রায়ই বাসার বাইরে থাকে। মাঝেমাঝে মৌরীর গায়েও হাত তোলে। হঠাত্‍ করেই খুব খারাপ লাগা শুরু করল। নতুন করে মৌরীর প্রতি প্রবল ভালোবাসা অনুভব করলাম। মৌরীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে হাসপাতালের করিডোরে হাঁটাহাঁটি করছি। এমন সময় ডাক্তার এসে বললেন ‘রোগীর অবস্থা আশঙ্কা জনক। প্রচন্ড রক্ত চাপের ফলে sudden cardiac attack.এখনি icu তে নিতে হবে। আপনি রোগীর কি হন? আমি উত্তর দিতে পারলামনা। শুধু বললাম ‘আমি আমার সকল কিছুর বিনিময়ে এই মেয়েটাকে ভালোবাসতাম। আপনার একে বাঁচাতেই হবে ডাক্তার। এক জীবনে মেয়েটাকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি এবার আমার কষ্ট পাওয়ার পালা।

মৌরীকে icu থেকে বের করা হল রাত একটায়। লাইফ সাপোর্ট ইন্সট্রুমেন্টকে ভুল প্রমানিত করে মৌরী চলে গেল। চিরতরে। মাঝরাতের আকাশে তখনো মেঘ জমেছিল। একটু পরেই শুরু হল প্রবল বর্ষন। আজ থেকে দশবছর আগের এক দিনেও বৃষ্টি হয়েছিল। সেদিন বৃষ্টির মাঝে যেমন করে আড়াল পরেছিল একটি ছেলের চোখের পানি আজ দশ বছর পরে রাতের আঁধার যেন নতুন করে সাক্ষ্য দিচ্ছি মৌরী চলে যাওয়ার। প্রকৃতি এক জীবনে একই ঘটনার বার পুনরাবৃত্তি ঘটায়…

___THE END___

একজন বাবা ও স্নেহা…

আজ আমার ছোট্ট বুড়িটার জন্মদিন , স্নেহা । ঠিক এই দিন এ সে এসেছিল , সেদিন অনেক বৃষ্টি হচ্ছিলো । আজও হবে , আমি জানি হবে । ছাদ এর এই দিকটায় স্নেহা কে নিয়ে আকাশ দেখতাম । ওর বয়স তখন মাত্র তিন । মেঘদের দিকে এক মনে তাকিয়ে থাকতো এবং বাবার সাথে কত কথা বলত । ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে ওর সুন্দর কথাগুলো শুনার জন্য অফিস এ থাকতে পারতাম না একদম । বাসায় এসে ওকে কোলে নিতাম , তারপর ঘুম পর্যন্ত বাবা মেয়ে একসাথে । ঘুম এর সময় স্নেহা বাবাকে অনেক শক্ত করে চেপে ধরে ঘুমাত। মাঝে মাঝে ওর আম্মু হিংসে শুরু করে দিতো । সকাল বেলা স্নেহাকে ছেড়ে বাইরে যেতে মন চাইত না । যখন সে ৫ বছর এ পড়লো আমার শান্ত স্নেহা অনেক দুষ্টু হয়ে গেল । বাবার কাছে আবদার চলতো , আর চলতো আম্মু কে নিয়ে শত শত অভিযোগ । সারাদিন পর যেটুকু সময় পেতাম স্নেহা কে অনেক ভালো সময় কাটত ।
স্নেহার ঘরটা অনেক বড় । পূর্ব পাশের জানালাটা দিয়ে বিশাল আকাশ দেখা যায় । ওর মন টা আসলেই আকাশ এর মত হয়েছে , কারও কষ্ট সহ্য করতে পারে না । আম্মু একটু বকা দিলেই বাবার কোলের মাঝে লুকিয়ে সে কি কান্না । পাগলি মেয়ে একটা ।
আজ তার জন্মদিন । মনে পরে স্নেহার ৬ তম জন্ম দিন টির কথা , সেদিনও অনেক বৃষ্টি হচ্ছিলো । বাবা মেয়ে মিলে আম্মু কে ফাকি দিয়ে সেদিন অনেক সময় ভিজেছিলাম ছাদে বৃষ্টিতে , স্নেহা অনেক ভালো গান করে । ও গান করছিল আর বাবার হাত ধরে ভিজছিল । সেদিন ওর আম্মু অনেক বকেছিল আমাকে এবং স্নেহাকে কারণ অনেকটা সময় ভিজে বাবা ও মেয়ের সর্দি লেগে গেছিলো ।
আরও অবাক লাগে এটা ভেবে যে আমার সাত বছরের মেয়েটা অনেক বড় হয়ে গেছে মনের দিক থেকে । আমি যখন অসুস্থ থাকতাম স্নেহা আমার হাত ধরে থাকতো আর বলত বাবা তোমার কিছু হবে না , আমি আছি না । কিন্তু আমি পারিনি , আমি ওকে বুকের মাঝে চেপে ধরে রাখতে পারিনি । মাত্র ৮ বছর বয়সে সে মারা যায় । হসপিটাল এর সাদা বিছানায় বাবার কোলে মাথা রেখে স্নেহা মারা যায় । ও বলত আমার কিছু হবেনা বাবা দেখো কিন্তু আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি । বাবার বুকের মাঝ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল আমার স্নেহা কে ।
বলেছিলাম না আজ আকাশ কাঁদবে । বৃষ্টি … ছাদে দাড়িয়ে একা ভিজছি । এক সময় আমার হাতে একটা স্পর্শ পাই , চোখ মেলে দেখি স্নেহা । আমার স্নেহা । বাবা একা একা ভিজছ , আমাকে ডাকলানা কেন ? যাও , তোমার সাথে আরি , কথা বলবনা । এমন করেনা মিষ্টি মামুনি , আয় এখন ভিজি । আমার লক্ষ্মী মেয়ে , রাগ করে না ।
একটা মানুষ কে দেখা গেলো ছাদের উপর একা দাঁড়িয়ে থাকতে । চোখের পানি টুকু কেউ বুঝলনা , বৃষ্টির পানির সাথে মিশে যাচ্ছে তার কষ্ট গুলো….

____THE END___

কে জানে এটা আরেকটা বাজি কিনা ?

ঘটনা শুরু হয় ২০০৬ সালের পহেলা এপ্রিল। বয়স বেশি ছিল না। টিন এজ সময় চলছিল… সে সময়েই আমি মোবাইল ব্যবহার করতাম… পহেলা এপ্রিল এ একটা মেসেজ আসে। ওই রকম মেসেজ দেখে আমি অভ্যস্ত নই। মেসেজ শুধু লেখা ছিল i love you 4ever….আমি ভাবলাম কেও মনে হয় এপ্রিল ফুল করার জন্য পাঠিয়েছে। এরপর ১২ দিন ওই নাম্বার থেকে কোন মেসেজ/কল আসল না… আমি এটাকে তেমন পাত্তা দিলাম না।

এরপর ১৪ই এপ্রিল আমি আর আমার ফ্রেন্ড স্যার এর কাছে পড়তে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি ছেলে এসে বলল… তুমি কি কাওকে পছন্দ কর??…… আমি অবাক হলাম… আমি বললাম – আপনাকে বলব কেন… সে তখন বলল– আমি একজন কে অনেক পছন্দক করি…আর সেইটা হল তুমি… একথা বলেই সে তার সাইকেল নিয়ে চলে গেল…

আমি অনেক অবাক হলাম… চিনিনা জানিনা…একজন এসে প্রপস করে দিল আর হল!! আসলে ওকে যে আমি একেবারে চিনতাম না তা না… চেহারায় চিনতাম। এমন কি ওকে নিয়ে আমরা আমাদের ফ্রেন্ডদের মাঝে আলাপ করেছিলাম। প্রথমবার দেখে বলেছিলাম ফ্রেন্ডদের… দেখ… কি সুন্দর…দেখলেই প্রেম করতে মন চায়…

কিন্তু যত যাই-ই হোক আমি এমন ভাবে কখনও প্রেম করতে চাইতাম না… এমন ভাবে মানে… আমাকে একজন প্রথমেই বলে দিল আর আমি সব শুরু করে ফেললাম! আমি কিছুটা সময় নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে ছাড়ল না। ওরা বলত প্রেমটা করেই ফেল। এরপরেও আমি একটু সময় নিতে চাইলাম।

এরপর থেকে আমাদের দেখা হলেই কথা হত… আস্তে আস্তে আমার ফ্রেন্ড সারকেল আর তার ফ্রেন্ড সারকেল এর মাঝে ভাল ফ্রেন্ডশিপ হয়ে গেল…আমরা প্রায়ই একসাথে ঘুরতে যেতাম। শীতের দিন আমরা সব ফ্রেন্ডরা ব্যাড মিনটন খেলতাম… কত যে মজা করতাম…তা বলে শেষ করা যাবেনা… এভাবে ১ বছর কেটে গেল… ওর জন্য মনে অনেক ভালবাসা জন্ম নিতে থাকল। ও আমার অনেক কেয়ার করত… ভাবতাম ওর মত আর কেও হয়ত আমাকে এত ভালবাসবে না। উঠতে -বসতে -খেতে -ঘুমাতে এই ছেলেটা আমাকে সঙ্গ দিত…আমিও যে ওকে পছন্দ করতাম এইটা আমার আর ওর ফ্রেন্ডরা সবাই জানত। এমনকি ও নিজেও জানত। কিন্তু কখনও মুখ ফুটে বলে হয়নাই। আমি ঠিক করলাম এইবার বলেই দিব। সাম্নেই এইচ এস সি ছিল… তাই ভাবলাম আরেকটু দেরি করে পরীক্ষার পরেই বলি…

ও যে আমাকে কত প্রেম দেখাইসে এই দুই বছর… আমার জ্বর হলে ও প্রায় পাগলের মত হয়ে যেত…যদি দিন কথা/দেখা না হত তবে ৩য় দিন দেখতাম কলেজ যাওয়ার পথে দাঁড়ায়ে আছে… আমি একবার বলসিলাম… কিছু ভাল লাগতেসে না… মিষ্টি খাব… এমনিতেই বলসিলাম… ও কিভাবে জানি খবর পেয়ে ফ্রেন্ডকে দিয়ে মিষ্টি পাঠায়ে দিসে! ও আমাকে এত ভালবাসা দেখাইসে যে আমি বলে শেষ করতে পারবনা… এভাবে দুই বছর কেটে গেল…

অনেক ভেবে ডিসিশন নিলাম… আমি যে ওকে ভালবাসি সেইটা তো ও বুঝেই… তাই এবার বলেই দিব… এইচ এস সির জন্য আর অপেক্ষা করলাম না… ওকে একদিন বলেই দিলাম…কিন্তু আমি বলার সাথে সাথে ওর মধ্যে এক ধরনের পরিবর্তন চলে আসল… ও আমাকে Avoid করতে লাগল… আগের মত কথা বলা থামায়ে দিল… এখন আর আমাকে না দেখলে কষ্ট হয়না… আমার জ্বর হলেও ওর কিছু যায় আসে না। আমার তখন মরে যাওয়ার মত অবস্থা… সামনে পরীক্ষা… কি করব কিছুই বুঝতে পারতেসিলাম না… এই ডিপ্রেশন নিয়ে পরীক্ষা দেই…

ফ্রেন্ডরা বলল ওর সাথে ফেস টু ফেস কথা বলতে… কিন্তু ও আমার সাথে ফেস টু ফেস কথা বলতে চায় না… ও বলে ওর সাথে দেখা করতে হলে আরেকজন কে নিয়ে যেতে হবে… আমি তাতেও না করিনা… যখন দেখা করি তখন ও কিছু বলে না…শুধু বলে আমাকে ভুলে যাও…I dnt lv u…. তখন কি বলব বুঝতে পারতেসিলাম না…। শুধু বললাম আমি এতা পারব না…

এখন ওর নতুন গার্ল ফ্রেন্ড আছে… আমার কোন খোঁজই নেয়না… অনেক ফোন দিসি… অনেক কান্নাকাটি করসি… কি অপরাধ করেছিলাম যে আমার সাথে এমন করল… ওর ফ্রেন্ড আমার ফ্রেন্ড কে বলসে যে ও নাকি এক জনের সাথে বাজি ধরসিল আমাকে পটাবে এই বলে…কিন্তু আমার বিশ্বাস হয়না… কারন একটা মানুষ ২ বছর ধরে এমন অভিনয় করতে পারেনা। ওকে মেসেজ দিলে ও কোন উত্তর নেয়না… ফোন করলেও কথা বলতে চায় না… ওকে আর ফোনও দেই না… মাঝে মাঝে আমার স্বপ্নে ও আসে… কথা বলে… এরপর সারাদিন ওর কথা আমার কানে বাজতে থাকে… খুবই খারাপ লাগে…

২ বছর ধরে ওর উপর আমি অনেক নির্ভরশীল ছিলাম। এখন কলমের হেড খুজে না পেলেও ওর কথা মনে পরে… আমাকে অনেক অসহায় করে দিয়ে গেসে… যা ই করি… ওর কথাই ভাবি… প্রতিদিন রাতে ভাবি কাল হয়ত ও কল করবে…এভাবে রাত পার হয়… অন্য কোন নাম্বার থেকে ফোন আসলেই ভাবি এটাই বুঝি ওর ফোন… একদিন যেমন হঠাৎ করে ওর মেসেজ পেয়েছিলাম…সেই হঠাৎ এর অপেক্ষায় আমি দিন কাটাই… ওকে আর ফোন দেইনা… ভাল আছে ওর নতুন মানুষ নিয়ে… কে জানে এটা আরেকটা বাজি কিনা ?

____The End____