শেষ কোথায়?

-হ্যালো, দিপু কেমন আছ?
দিপুঃ এইতো,খুব বেশি ভালো না। তুমি কেমন আছ?
– কাজ করতে করতে মরে যাচ্ছি, খুব ক্লান্ত লাগছে। খাইছ?
দিপুঃ হুম্ কয়েকবার খাইলাম সকাল হতে। তুমি?
– নাহ্,তুমি আমারে ছাড়া খেতে পারলে?

শুরু হয়ে গেল কান্না, কাঁদতে কাঁদতে বলল… তোমার সাথে কথা নেই…
দিপু এই মেয়েটাকে নিয়ে খুব বিপদে আছে। একটু এদিক সেদিক হলে শুরু হয় অভিমান,কান্না। এই মেয়েটার নাম রেখা,মেয়েটা চুয়েট এ পড়ে আর দিপু চবি তে।

মেয়েটার সাথে ওর পরিচয় ২০১০ সালে জানুয়ারীতে চবিতে। দিপুর রেখাকে ১ম দেখে ভালো লাগে। তাদের দেখা হয় মাত্র ৪দিন। তারপর কেটে যায় অনেকদিন। প্রায় ছয় মাস পর রেখা দিপু এর সাথে যোগাযোগ করে। এখন নিয়মিত ওদের কথা হয়। একে অপরের কথা ভালো লাগা, মন্দ লাগা নিয়ে। এভাবে রেখাকে ভালোবেসে ফেলে দিপু। কিন্তু দিপু বলতে পারেনা তার ভালোলাগার কথা। হঠাত্ রেখা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ১দিন যায় ২দিন যায় রেখার কোন পাত্তা নেই। দিপু বুঝতে পারে রেখাকে সে কত ভালোবাসে! দিপু রেখার এক বান্ধবীর কাছে জানতে পারে রেখার একজনের সাথে সম্পর্ক আছে। মাঝখানে কিছুদিন তাদের সম্পর্ক ছিলনা আর ঠিক তখন রেখা দিপু এর সাথে কথা বলে। দিপু নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেনা। যেই মেয়েকে সে এত ভালোবাসে,এত বিশ্বাস করে সে কিনা এমন করল!ওর সাথে সময়
কাটাল? দিপু হারিয়ে ফেলে তার জীবনের খেই। অন্ধকার হয়ে আসে দুনিয়া। বেঁচে থাকার তাড়নায় সে চলে যায় অন্ধকার দুনিয়ায়। শুরু করে অশান্ত রাজনীতি আর জীবনের সঙ্গী করে নেয় সিগারেট….

বিরাগময় জীবন, বুকের ভিতর চাপা কষ্টকে সাথী করে কেটে যায় দিপুর দিন। আস্তে আস্তে ভুলতে চেষ্টা করে তার অতীত। কিন্তু ভুলতে পারেনা কারণ তার জীবনে রেখা ছিল ১ম
ভালোবাসা। যখনি কোথাও কোন হতাস প্রেমিক প্রমিকাকে দেখতো তখনি তার ভিতর
একটা চাপা আর্তনাদ চিত্কার করে উঠতো। সে চিত্কার করে বলতো সবই প্রতারনা,সবই ছলনা। এভাবে সময় চলে যায়,হারিয়ে যায় অনেক কিছু,কাছে আসে অনেক নতুন বন্ধু,ফিরে আসেনা রেখা।দিপু ভাবে রেখা হয়ত মিশে গেছে কোন দিগন্তে আর হয়ত ফিরে আসবেনা,পাবেনা আর তার ভালোবাসা। হঠাত্ একদিন দিপুর নাম্বারে একটা SMS আসে।
কিছুক্ষণ পর ফোন আসে ঐ নাম্বারটা হতে…

দিপুঃ হ্যালো
-ওই পাশ থেকে ভেসে আসে একটি মেয়েলি কন্ঠ।
দিপুঃ কে বলছেন PLS
-দিপু আমি রেখা, কেমন আছ?
দিপুঃ ভালো না থাকার কোন কারণ আছে?
– দিপু I M SORRY,আমি জানি তুমি আমায় ভালোবাস। আমি একটা সমস্যায় ছিলাম। আমার
কাছে মোবাইল ছিলনা তাই এতদিন যোগাযোগ করতে পারিনি।আমায় মাপ কর। i love u
dipu.really….

দিপু কিছু বুঝে উঠতে পারেনা,সে কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল… really বলাটাকি ঠিক হল? আমায় আপন করতে পারবে? বিস্ময় ভেঙ্গে অনেকটা স্বাভাবিকভাবে হয়ে উঠে দিপু
কিছুক্ষণ নীরব হয়ে যায় তারা, নীরবতা ভাঙ্গে রেখা…… দিপু আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি কিন্তু তোমায় আপন করতে পারবনা কারণ আমি আরএকজকে কমিটমেন্ট দিয়েছি যে তাকে আপনকরে নিব।
দিপু এর অর্থ বুঝতে পারেনা,যদি আপন করতে না পারে তাহলে ভালোবাসা কেন? কেন এতদিন
পর ফিরে আসা ?

দিপু অনেক কথা বলতে চায় কিন্তু বলতে পারেনা, তার মনে হয় কেউ তার গলা চেপে বসে আছে… তো রেখা কি করতে পারি বল?
-দিপু আমি যাকে কমিটমেন্ট দিয়েছি সে আমায় ঠিকমত care করেনা,আমার কথা সে শুনতে চায়না। তুমি আমার ভালো বন্ধু হবে?
দিপুঃ যদি তুমি আমাকে বন্ধু করে তোমার পাশে রাখতে চাও তাহলে হব। হয়ত তোমার সুখের সাথী হতে পারছিনা,দুখের সাথী হতে পারছি,এটাই যে আমার বড় পাওয়া। এরপর হতে চলে তাদের সুখ দুখের SHARE. প্রতিদিন চলে ২ঘন্টা করে কথা,একই সময় খাওয়া,ঘুমানো।
ভালোই কাটছে তাদের দিন কিন্তু আড়ালে থেকে যায় দিপুর মনের হাহাকার।
আজও দিপু রেখাকে ভালোবেসে যায় জানেনা কতদিন
এভাবে তাকে ভালোবাসার মানুষের সাথে অভিনয় করে যেতে হবে। কবে হবে এর শেষ? দিপু দিন গুণে এর শেষ দেখার জন্য।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: