“ মোহ ”

শিহাব খুবই শান্ত স্বভাবের একটা ছেলে। তারা দুই ভাই। পরিবারে কোনো বোন ছিলনা। তাই সে জানতোনা বোনের আদর-ভালোবাসা কেমন হয়। একটি স্বনামধণ্য স্কুলের বালক শাখায় পড়ার কারনে কোন মেয়ের সাথে তর কখোনো কথা বলা হয়ে উঠেনি।

সবেমাএ শিহাবের এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তার হাতে এখন প্রচুর অবসর সময়। এমন সময় তার নানু-নানী তাকে তাদের সাথে একটা জায়গায় যাবার কথা বলল। শিহাব সানন্দে জিজ্ঞাস করল কোথায়? নানু বলল তার এক মামত ভাইয়ের বাড়িতে। তো শিহাব রাজি হয়য়ে গেল।

সেদিন সন্ধা ছটার দিকে শিহাব তার নানু-নানীর সাথে সেখােন যাবার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আধা ঘন্টার ভেতর তারা পৌছে গেল। কিছু দূর হাঁটার পর তারা কাঙ্খিত বাড়িটি খুঁজে পেল। বাড়ির কাজের লোক দরজা খুলে দিল। তারা ড্রয়িং রুমে সোফায় বসল। ১৫ মিনিট পরে নানুর মামাতো ভাইয়ের বউ আসল। কিছুক্ষণ পর তার ছোট মেয়ে রিমি সেখানে আসল এবং সবাইকে সালাম দিল। তারপর রিমি মেহেমানদের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে ব্যস্ত হয়ে পরল।

শিহাব যখন প্রথম রিমিকে দেখল সে অপলক দৃষ্টিতে মুগ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকল। শিহাবের চোখের পলক পড়ল রিমি সেখান থেকে যাবার পর। শিহাব বেশ অবাক হয়। এতো সুন্দর মেয়ে সে জীবনে কখনো দেখেনি। কিছুক্ষণ পর রিমি তাদেরকে খাবার পরিবেশন করে দেয়। খাওআ-দাওয়া শেষে শিহাবের নানু-নানী ভিতরের রুমে যায় রিমির মার সাথে কথা বলতে।

রুমে এখন শুধু রিমি আর শিহাব। রিমি টিভি দেখছে। আর শিহাব আড় চোখে তাকে বার বার দেখার চেষ্টা করছে। যত দেখছে ততই মুগ্ধ হচ্ছে শিহাব। মেয়েটির হাসি এতোটা সুন্দর যে দেখলে মনে হয় সাগরের ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। তার চোখ দুটো এতোটাই নির্মল যে, প্রকৃতিও তার কাছে কিছুই না। তার ঠোট জোড়া যেন টকটকে লাল গোলাপের পাপড়ি। শিহাব অনেক চেষ্টা করল মেয়েটার সাথে কথা বলার জন্য। কিন্তু সে অপলক চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। কিছুক্ষন পর শিহাবের নানু-নানী তাকে নিয়ে বের হল। তখনি মাঝারি বৃষ্টি হওয়া শুরু করল। শিহাবের যেতে ইচ্ছা করছিলনা। তবুও যেতে হয়েছে। এরপর বাসায় যাবার পথে সে পুরটা সময় রিমির কাথা ভেবেছে। বাসায় গিয়ে সে ঠিক করল এস.এস.সি পরিক্ষার রেজল্টের পর সে আবার রিমিদের বাসায় জাবে। রিমির সাথে কথা বলবে।

একদিন শিহাবের রেজাল্ট বের হয়। সে খুব ভাল রেজাল্ট করে। পরিবারের সবাই খুব খুশি হয়। শিহাবের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় তার আর রিমির বাসায় যাওয়া হয়ে উঠেনি। শিহাব এখন অনেক অনেক বড় হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে ডায়রী খুলে যখন সে ঘটনাটি পড়ে, কিছুসময়ের জন্য হলেও সে এক অন্য জগতে হারিয়ে যায়. . . . . . . .

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: