বন্ধনের (প্রশান্ত) কাছে খোলা চিঠি

১৯৮৩, ঢাকা, তোমার মনে আছে বন্ধন (প্রশান্ত) পশ্চিম তেজতুরী বাজার এর একটি ৫ তলার চিলেকোঠায় ১৩ বছর বয়সী ১ কিশোরীর বাসা ছিল । আর তুমি ছিলে ঠিক তার পিছনের ৪ তলাতে। তোমাদের ছিল নিজেদের বাড়ী আর ওরা থাকতো ভাড়া বাসায়…

মা বাবা ছাড়াও কিশোরীটির ১টি দশ বছরের আর দুই বছরের ছোট্ট দুটি ভাই বোন ছিল । বাবা মা এর সাথেই থাকতে তুমি, আর তোমার ছিল এক বউদি মনি আর তার ছোট্ট ছেলে অলি, ছোট ভাই সুশান্ত , দাদা ভাই এর নামটি এই মুহূর্তে মনে করতে পারছিনে…
মেয়েটি তখন ক্লাস সেভেন এ আর তুমি অনার্স এর ছাত্র …
একটু ডিয়ারইংই ছিলে তুমি…পাড়ায় প্রায় সকলেই তোমায় কম বেশি ভয় পেতো। পেতনা কেবল ঐ কিশোরী মেয়েটি …

সব সময় ওর আর তোমার দেখা হত। তুমি তোমার ছাদে আর ও ওর চিলেকোঠার বারান্দায়।
এভাবে বেশ কিছু দিন নীরব চোখে চেয়ে থাকা…মনের অজান্তেই কখন যেন সেই কিশোরীটি আবিষ্কার
করলো যে ; সে তোমায় তার জীবনের চেয়েও বেশি পছন্দ করে, হয়ত ভালবাসা কি তা সে তখনও
বুঝতে শিখেনি ; এক দিন না দেখলে তোমায় অস্থির হয়ে উঠে তার ছোট্ট মনটা …

কিন্তু বলবে কাকে সে, তুমি ত আর পাশে নেই তার। এক দিন স্কুল থেকে ফিরে তোমায় ছাদে দেখতে না
পেয়ে কি যে তার ব্যকুলতা !! বিকেলে যখন সে তোমায় দেখতে পায় তোমার ছাদে তক্ষুনি ছোট্ট একটি চিরকুট লিখে “ভালবাসি তোমায়”; কিন্তু দেবে কিভাবে তোমায় ? শেষে অনেক ভেবে স্কুল থেকে কিনে আনা একটি আঁচার এর পুটলিতে মুড়িয়ে ছুঁড়ে দেয় তোমায়; তুমি যেন অপেক্ষায় ই ছিলে ।। পরক্ষনেই তোমার উত্তর ” আমিও ভালবাসি তবে অনেক বেশি” ! সেই থেকেই শুরু “প্রেম বন্ধনের” ভালবাসার কাহিনী …

বন্ধন, তুমি ছিলে অসীম সাহসী এক নির্ভীক যুবক। প্রতি সন্ধ্যায় মেয়েটির ছাদে এসে তাকে দেখে যেতে তুমি। কারো কোন পরয়াই করতে না তুমি !! কিন্তু কোন দিন একটি বারের তরেও তুমি তাকে ছুঁয়ে
দেখনি । হঠাৎ এক দিন একটি চিরকুট লিখে পাঠালে সে যেন তোমায় মাত্র একটি মিনিট সময় দেয় দেখা করার; কি যেন একটা দিবে তুমি তাকে …

কিশোরীটি দুরু দুরু বুকে রাজী হয়ে যায় । পর দিন সন্ধ্যায় চিলেকোঠার সিঁড়ীতে তোমার আর কিশোরীর প্রথম মুখমুখি দেখা !!! তুমি ওর মুখ খানি তোমার দুহাতের মাঝে নিয়ে অপলক দৃষ্টি তে কিছুক্ষন চেয়ে থাকলে, তার পর টুক করে ওর ললাটে এঁকে দিলে তোমার ওষ্ঠের আলতো পরশ ।।
আর সেই দিনই জানাজানি হয়ে গেল তোমার আর মেয়েটির ভালবাসার কথা…
ও পারায় আর থাকা হলনা তাদের(মেয়েটির)। কারন তোমার বাবা ছিল প্রভাবশালী লোক ।। তোমায় ছেড়ে আসার সময় তুমি তাকে একটি ল্যান্ড লাইন নাম্বার দিয়ে বলেছিলে যোগাযোগ করবার জন্য ।
ব্যাস এটুকুই আর কিছুই নয়… কিন্তু কতশত বার যে ওই কিশোরীর দুরু দুরু হাত
তোমায় ওই নাম্বার এ খুজেছে তার ইয়াত্তা নেই… কিন্তু তোমায় আর পাওয়া হয়না তার …

বন্ধন সেই কিশোরী আজ পরিপূর্ণ একজন নারী !! যে আজও তোমার অপেক্ষায় চেয়ে আছে অনন্ত কালের পথে ………!! জানিনে এ লিখা তোমার নজরের আওতায় পরবে কি না………? তবে সে অনন্ত কাল তোমার অপেক্ষায় থাকবে যেনে রেখো…।
আজ সে বুঝেছে ভালবাসা কি, আজ সে জানে একেই বলে “প্রেমের বাঁধন”

চিরদিন তোমারই,
“প্রেম”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: