নাম তার মৌ…

নাম তার মৌ…
আমি ডাকতাম এ নামেই । প্রথম দেখলাম ২০০৯ সালে এস,এস,সি, পরীক্ষার হলে । ব্যাস, টীনেজদের যা হয় আরকি । ভালো লেগে গেল । শ্যামলা রংয়ের মায়াবী চেহারার মেয়েটি আমার হ্রৃদয়ে আসন পেতে বসল ।
পরীক্ষা দেয়ার ফাঁকে এক পলক দেখে নিতাম তাকে । আমার এক বন্ধুর সিট তার নাক বরাবর সামনে পড়েছিল । শেষ পরীক্ষার আগে তাকে সব কথা বলি । অবাক হই যখন শুনি সে হিন্দু । কথায় আছে,Love is blind ।আমার ক্ষেত্রেও তাই হল । ভালোবাসি তাকে তার ধর্মকে নয় । শেষ পরীক্ষার দিন তার জন্য ২ ঘন্টা অপেক্ষা করি কিন্তু সে আসে না । ভাঙ্গা মন নিয়ে বাসায় ফিরে আসি । তাকে শুধু খুজতাম,পেতাম না । ভাগ্য কিন্তু আমার মন্দ ছিল না । যে কলেজে ভর্তি হতে যাই সেখানে তার সঙ্গে দেখা । আমরা দুজন একসাথে ভর্তি হই এমনকি এক শিক্ষকের অধীনে । আস্তে আস্তে তারসঙ্গে আমার সম্পর্ক এত গাড়ো হয় যে আমি তার বাসায় একদিন যাই । ও নাকি আমার সর্ম্পকে সব তার মা ও বড় বোনকে জানাত । সবাই এমনকি অন্য বিভাগের বন্ধুরা এটা জানত যে আমি তাকে ভালোবাসি । একদিন তার মোবাইল ন: চাইলে সে নিজ হাতে আমার ডায়রিতে লিখে দিল । ইস কি আনন্দ লাগছিল । আমরা আমাদের পড়া,বই ইত্যাদি শেয়ার করতাম ও প্রতিদিনই একটু একটু করে আমার আরো কাছে আসতে লাগল । কিন্তু একদিন আমার কজন বন্ধু তাকে অন্য ছেলের সঙ্গে হাত ধরা অবস্থায় দেখতে পায় । আমি এসব কথায় কান দেই না । কারন তাকে চূড়ান্তভাবে বিশ্বাস করতাম । আমার ক্লাসের আরো দুজন বন্ধুও তাকে পছন্দ করত । শুনতাম তারা তার বাসায় নিয়মিত যেত ও মোবাইলে কথা বলত । কিন্তু সে আমাকে তার মোবা:ন: দেয়ার সময় বলে আমিই একমাত্র তার মো:না: জানি । তাদের প্রত্যেককেও নাকি ঐ একই কথা বলে ।এছাড়াও আরো তিন ছেলেকে তার পিছনে ঘুরতে দেখি । কিছু দিন তাকে ফলো করার পর এর সত্যতা পাই । একদিন তাকে I LOVE YOU বলি । সে রিপ্লাই দেয় NO । পরদিন তাকে একথা জিগ্গেস করলে…….
মৌ: এটা সম্ভব নয় ।
আমি:কেন ?
মৌ:সব কেনর উত্তর হয় না ।
বিরাট রকম হোচট খাই । এ তো সে মৌ নয় । এরপর তার সাথে কোনদিন আমি সেচ্ছায় কথা বলিনি । সে আমায় দুবার পূজার দাওয়াত দেয় । আমি কিছু বলিনি । কত রাত কেটে যেত ঘুম আসত না ।সবাই যখন ঘুমাত আমি বালিশে মুখ গুজে কাঁদতাম । পড়ালেখা খারাপ হতে থাকে । সবচেয়ে খারাপ লাগত একসাথে ক্লাশ করতে । ইচ্ছে হতো দৌড়ে পালিয়ে যাই বহুদূরে । শেষদিকে এসে কষ্টটা সয়ে নিলাম । অবশেষে এইচ,এস,সি পরীক্ষা দিয়ে মুক্তি পেলাম যেন ।কিন্তু ভাগ্যটা আমার অত্যাধিক রকম ভাল কিনা তাই সে ও আমি এক কোচিংএ ভর্তি হলাম । এত মিল আমাদের মাঝে । কোচিংয়ে পড়ার সময় তাকে একটা থার্ডক্লাশ ছেলের সাথে দেখি । বর্তমানে সে আমার থেকে অনেক দূরে । কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কাছে থাকলেই ভালো হত । একটা কষ্টের মাঝেও খানিকটা আনন্দ পেতাম ।দূরে গিয়ে সে যেন আরো কাছে চলে আসছে । এখন প্রতিদিনই তার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো দেখি ।সে এখন JNU তে আর আমি এখন SUST এ 😦
কিন্তু দৃষ্টি ঘোলা হয়ে আসা পর্যন্ত,শেষ নি:শাস ত্যাগ করা পর্যন্ত সে আমার হ্রৃদয়ের মনিকোঠায় রক্ষিত থাকবে ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: